হযরত আলী (কা.)-এর পাঁচ বছরের খেলাফতের ফসল

    318
    0
    SHARE

    হযরত আলী (কা.) তাঁর ৪ বছর ৯ মাসের শাসন আমলে খেলাফত প্রশাসনের স্তুপীকৃত অরাজকতা ও বিশৃংখলাকে সম্পূর্ণরূপে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে যদিও সমর্থ হননি তবুও এ ক্ষেত্রে তিনটি মৌলিক সাফল্য অর্জিত হয়েছিল

    নিজের অনুসৃত ন্যায়পরায়ণতা ভিত্তিক জীবনাদর্শের মাধ্যমে জনগণকে এবং বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে মহানবী (সা.)-এর পবিত্র ও আকর্ষনীয় জীবনাদর্শের সাথে পরিচিত করেনমুয়াবিয়ার চোখ ধাঁধানো রাজকীয় জীবন যাপন পদ্ধতির সমান্তরালে তিনি জনগণের মাঝে অতি দরিদ্রতম জীবন যাপন করতেনতিনি কখনো নিজের বন্ধু-বান্ধব, পরিবার বা আত্মীয় স্বজনকে অন্যায়ভাবে অন্যদের উপর অগ্রাধিকার দেননিঅথবা ধনীকে দরিদ্রের উপর বা সক্ষমকে অক্ষমের উপর কখনো তিনি অগ্রাধিকার দেননি

    পর্বতসম সমস্যাকীর্ণ দিনগুলো অতিবাহিত করা সত্ত্বেও জনগণের মাঝে তিনি ইসলামের সত্যিকারের অমূল্যজ্ঞান সম্ভার বা সম্পদ রেখে গেছেন

    হযরত ইমাম আলী (আ.)-এর বিরোধীরা বলত, ইমাম আলী (আ.) একজন মহাবীর ছিলেনতিনি কোন রাজনীতিবিদ ছিলেন নাকেননা, তিনি বিরোধীদের সাথে সাময়িক বন্ধুত স্থাপন ও তেলমর্দনের মাধ্যমে তিনি পরিস্থিতিকে শান্ত করে, নিজের খেলাফতের ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে পারতেনঅতঃপর সময় বুঝে তাদের দমন করতে পারতেন

    কিন্তু বিরোধীরা একথাটি ভুলেগেছে যে হযরত ইমাম আলী (আ.)-এর খেলাফত ছিল এক বৈপ্লবিক আন্দোলনআর যে কোন বৈপ্লবিক আন্দোলনকেই সব ধরণের তৈল মর্দন ও মেকী আচরণ নীতিগুলো বর্জন করতে হয়ঠিক একই পরিস্থিতি মহানবী (সা.)-এর নবুয়ত প্রাপ্তির যুগেও পরিলক্ষিত হয়মহানবী (সা.)-কে মক্কার কাফের ও মুশরিকরা বহুবার আপোষের প্রস্তাব দিয়ে ছিলতাদের প্রস্তাব ছিল, মহানবী (সা.) যেন তাদের খোদা গুলোর ব্যাপারে প্রকাশ্য বিরোধীতা না করেন, তাহলে তারাও মহানবী (সা.)-এর ইসলাম প্রচারের ব্যাপারে কোন বাধা দেবে নাকিন্তু মহানবী (সা.) তাদের এই প্রস্তাব আদৌ মেনে নেননিঅথচ নবুয়তের চরম দূর্যোগপূর্ণ সেই দিনগুলোতে তৈলমর্দন ও আপোষমুখী নীতি গ্রহণের মাধ্যমে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে সুদৃঢ় করতে পারতেনঅতঃপর সময় সুযোগ মত শত্রুদের দমন করতে পারতেনকিন্তু সত্যিকারের ইসলাম প্রচার নীতি কখনই একটি সত্যকে হত্যার মাধ্যমে অন্য একটি সত্যকে প্রতিষ্ঠা বা একটি মিথ্যাকে দিয়ে অন্য একটি মিথ্যাকে অপসারণ করার অনুমতি দেয় নাএ ব্যাপারে পবিত্র কুরআনের অসংখ্য আয়াত উল্লেখযোগ্য

    আবার অন্য দিকে হযরত ইমাম আলী (আ.)-এর শত্রুরা তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য চরিতার্থের জন্যে যে কোন ধরণের অন্যায় অপরাধ এবং ইসলামের সুস্পষ্ট নীতিলংঘনের ব্যাপারেও কুন্ঠিত হয়নিশুধু তাই নয়, নিজেদের চারিত্রিক কলঙ্ক গুলোকে সাহাবীবা মুজতাহীদ’ (ইসলামী গবেষক) উপাধি দিয়ে আড়াল করার প্রয়াস পেয়েছেনঅথচ হযরত ইমাম আলী (আ.) সব সময়ই ইসলামী নীতিমালার পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণের ব্যাপারে ছিলেন বদ্ধ পরিকর

    হযরত ইমাম আলী (আ.)-এর দ্বারা বর্ণিত জ্ঞান-বিজ্ঞান, বুদ্ধিবৃত্তিক প্রজ্ঞা এবং সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ক প্রায় এগারো হাজার অমূল্য সংক্ষিপ্ত হাদীস সংরক্ষিত হয়েছে তিনি ইসলামের সুগভীর জ্ঞানরাজীকে অত্যন্ত শুদ্ধ ও উন্নত অথচ প্রাঞ্জল ভাষার বক্তৃতামালায় বর্ণনা করেছেন তিনিই সর্বপ্রথম আরবী ভাষার ব্যাকারণ ও সাহিত্যের মূলনীতি রচনা করেন তিনিই সর্বপ্রথম ব্যক্তি যিনি ইসলামের উচ্চতর দর্শনের সুদৃঢ় ভিত্তিস্থাপন করেন এবং উন্মুক্ত যুক্তি-বিন্যাস ও যৌত্তিক প্রত্যক্ষ প্রমাণের মাধ্যমে ইসলামকে ব্যাখার নীতি প্রচলন করেনসে যুগের দার্শনিকরা তখনও যেসব দার্শনিক সমস্যার সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়ে ছিলেন, তিনি সেসব সমস্যার সমাধান দিয়ে ছিলেনএমন কি এ ব্যাপারে তিনি এতবেশী গুরুত্বারোপ করতেন যে, যুদ্ধের ভয়াবহ ডামাডোলের মাঝেও সুযোগ মত ঐসব জ্ঞানগর্ভ মুলক পর্যালোচনার প্রয়াস পেতেন

    হযরত ইমাম আলী (আ.) ব্যাপক সংখ্যক লোককে ইসলামী পন্ডিত ও বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলেন ইমাম আলী (আ.)-এর কাছে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ঐসব জ্ঞানী-পন্ডিতদের মাঝে হযরত ওয়ায়েস কারানী (রা.), হযরত কুমায়েল বিন যিয়াদ (রা.), হযরত মিসাম তাম্মার (রা.) ও রশীদ হাজারীর (রা.) মত অসংখ্য সাধুপুরুষও ছিলেনযারা ইতিহাসে ইসলামী ইরফানের (আধ্যাত্মবাদ) উ হিসেবে পরিচিতইমাম আলী (আ.)-এর শিষ্যদের মধ্যে আবার অনেকেই ইসলামী ফিকাহ (আইন শাস্ত্র), কালাম (মৌলিক বিশ্বাস সংক্রান্ত শাস্ত্র), তাফসীর, কিরাআত (কুরআনের শুদ্ধপঠন শাস্ত্র) ও অন্যান্য বিষয়ের মুল উ হিসেবে পরিচিত

    | cweÎ KyiAv‡b Avj−vn e‡j‡Qb t ÒZv‡`i KwZcq wewkó e¨w³ GK_v e‡j cÖ¯’vb K‡i †h, ‡Zvgiv P‡j hvI Ges †Zvgv‡`i Dcvm¨‡`i cyRvq `„p _vK|ÕÕ(-myiv Avm& †mvqv`, 6 bs AvqvZ|)

    Avj−vn AviI e‡j‡Qb t ÔÔAvwg Avcbv‡K `„pc` bv ivL‡j Avcwb Zv‡`i cÖwZ cÖvq wKQyUv Sz‡K co‡Zb|ÕÕ(-myiv Avj Bmiv, 74 bs AvqvZ|)

    gnvb Avj−vn e‡j‡Qb t ÔÔZviv Pvq †h, Zzwg bgbxq nI, Zvn‡j ZvivI bgbxq n‡e|ÕÕ(-myiv Avj Kvjvg, 9 bs AvqvZ|) Dc‡iv³ AvqvZ ¸‡jvi nv`xm wfwËK Zvdwmi `ªóe¨|

    | ÔwKZveyj Mvivi Iqv` `vivi Avgvw`, I gyZvdviwiKvZz RvIqvwgD nv`xmÕ|

    | Ôgyi“hyh& hvnveÕ 2q LÛ, 431 bs c„ôv| Ôkviû Bewb Avwej nv`x`Õ 1g LÛ, 181 bs c„ôv|

    | Avkevn& I bvhvBi“ myqyZx wdb& bvû 2q LÛ| kviû Bewb Avwej nv`x` 1g LÛ 6 bs c„ôv|

    | bvn&Ryj evjvMv `ªóe¨|

    | kvi“û Bewb Avwej nv`x`, 1g LÛ, 6-9 bs c„ôv| ÔR‡½ Rvgv‡jiÕ hy‡× ˆRbK †e`yBb e¨w³ nhiZ Avjx (Av.)-†K e‡j−vt Ò†n Avwgi“j gyÕwgbxb!Ó Avcbvi `„wó‡Z Avj−vn& wK GK? cvk©¦¯’ mevB H e¨w³‡K Av‡µvgY K‡i e‡j−vt Ò†n †e`yBb G `~‡hv©Mgyû‡Z© Zzwg wK Bgvg Avjx (Av.)-Gi AivRK gvbwmK cwiw¯’wZ j¶¨ Ki‡Qv bv! Ávb PP©vi Avi †Kvb mgq †c‡j bvÓ?

    Bgvg Avjx (Av.) Zuvi mv_x‡`i j¶¨ K‡i ej‡jbt ÒH e¨w³‡K †Q‡o `vI| ‡Kbbv, †gŠwjK wek¦vm I Bmjvgx gZv`‡k©i ms‡kvab Ges Bmjv‡gi D‡Ïk¨ I j¶¨‡K my¯úó Kivi R‡b¨B †Zv AvR Avwg G hy‡× AeZxY© n‡qwQ| ÒAZtci wZwb H †e`yBb Avie e¨w³i cÖ‡kœi we¯—vwiZ e¨vL¨v mn DËi w`‡q wQ‡jb| (wenvi“j Av‡bvqvi, 2q LÛ, 65 bs c…ôv|)

     

    Share

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here