Home অমীয় বাণী পুত্রের প্রতি পিতার অমিয় বাণী

পুত্রের প্রতি পিতার অমিয় বাণী

419
0
SHARE

পুত্রের প্রতি পিতার অমিয় বাণী

মুয়াবিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে সিফফিন প্রান্তে সংঘঠিত যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে (৬১৭ খ্রী.) হাযিরিন [সিরিয়া ও ইরাকের মধ্যবর্তী স্থানের একটি গ্রাম] নামক স্থানে ক্যাম্প করার পর হাসান ইবনে আলীর উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন।

মানব ও পার্থিব ঘটনাবলী
এ পত্র এমন পিতার, যিনি সহসাই মৃতু্যবরণ করবেন, যিনি সময়ের কষ্টের সারবত্তা স্বীকার করেন যিনি জীবন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন, যিনি সময়ের দূর্দশার কাছে নিজেকে সমপণ করেছেন, যিনি পরলোকগামীদের আবাসস্থলে বাস করছেন এবং যিনি যেকোন দিন পৃথিবী থেকে প্রস্থানের অপেক্ষায় আছেন। এমন পুত্রের প্রতি, যিনি যা অর্জন করতে পারেন নি তা পাবার আকুল আকাঙ্খা করেন, যিনি পদচারণা করছেন তাদের পথে যারা মারা গেছে, যিনি দুনিয়ার ব্যাধিসমূহের শিকার, যিনি যুগের গন্ডিভুক্ত, যিনি দুর্দশার লক্ষ্য, যিনি দুনিয়ার বঞ্চনার শিকার, যিনি প্রতারণাময় পার্থিব সামগ্রীর সম্মুখে, যিতি পতনশীলদের প্রতীক, যিনি মৃতু্যর হাতে বন্দি, যিনি কষ্টে জড়িত, যিনি দুঃখ সহবাসি, যিনি শোক ও তাপে আক্রান্ত , যিনি কামনা-বাসনার তীরে জর্জারিত এবং মৃতদের উত্তরসূরী।
সকল প্রশংসা একমাত্র মহান প্রতিপালকের; তারপর এদুনিয়াকে আমার কাছ থেকে বিতাড়িত করে [আমি যা শিখতে পেরেছি এখন তুমি তা জেনে রাখো] আমার উপর সময়ের আক্রমণ ও আমার প্রতি পরকালের আগমনই আমার নিজকে ছাড়া অন্য কাউকে স্মরণ করা থেকে বিরত রেখেছে এবং আমার সকল মনযোগকে পরকালমুখী করে রেখেছে। ফলে এই আত্মচিন্তায় মগ্নতা নিজ ব্যতীত অন্য সবকিছু থেকে আমাকে ফিরিয়ে রেখেছে, অন্যদের প্রতি মশগুল হওয়া থেকে আমার মনযোগকে বিচ্ছিন্ন করেছে। আর আমাকে আমার কামনা-বাসনা অনুগামী হওয়া থেকে রক্ষা করেছে, এবং প্রতিটি কর্মের প্রকৃতরূপ আমার কাছে উম্মোচিত হয়েছে। তাই আমাকে এমন পথে পরিচালিত করেছে যা ছেলেমি খেলা নয়। আমাকে এমন এক বাস্তবতায় উত্তীর্ণ করেছে যেখানে সকল মিথ্যা ও কলুষিতার পথ রূদ্ধ। এখানে আমি তোমাকে আমার জীবনের অংশ হিসাবে দেখেছি বরং তুমি আমার পূর্ণজীবন। তাই তোমার ওপর আঘাত হলে মনে হয় যেন আমার ওপর সে আঘাত পতিত হয়েছে এবং যদি তোমার কাছে মৃতু্য আসে তবে মনে হয় যেন সে আমার জীবনকে ছিনিয়ে নিয়েছে। সুতরাং তোমার কাজকর্ম আমার নিজের বলে মনে করেছি যেমন করে আমার বিষয়াবলী আমার বলে মনে হয়। তাই আমি এচিঠিটি তোমাকে লিখছি যাতে তুমি দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কঠিন মূহুর্তে পথনির্দেশনা দিবে, আমি বেঁচে থাকি আর না থাকি।

 

আত্মশুদ্ধির বিভিন্ন স্তর
আমার পুত্র, আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি আল্লাহকে ভয় করতে এবং সর্বদা তাঁর আদেশ মেনে চলতে, তাঁর স্মরণে তোমার হৃদয়কে জীবিত রাখতে এবং তাঁর রজ্জুকে শক্ত করে ধরতে। আল্লাহ্ ও তোমার মধ্যকার সম্পর্কের মত এতখানি বিশ্বস্ত মাধ্যম আর কোনটি আছে, যদি তুমি তা ধরে রাখ? উপদেশ দ্বারা,তোমার হৃদয়কে উজ্জীবিত কর এবং অবৈধ কর্মের প্রতিবিমুখ হয়ে তোমার কামনা-বাসনাকে মেরে ফেলো, তোমার জীবনকে দৃঢ় ইমান দ্বারা শক্তিশালী কর, প্রজ্ঞার আলো দ্বারা জ্যোতি দান কর, মৃতু্যযর কথা স্মরণ করিয়ে এটাকে অবদমিত কর, তার থেকে পতন হওয়ার স্বীকারুক্তি গ্রহণ কর, দুনিয়ার দুর্যোগময় পরিবর্তন পর্যালোচনা করে তাকে জ্ঞান দান কর এবং কালের কর্তৃত্বে দিবা ও রাত্রির পরিবর্তন ও নেতিবাচক ঘটনাসমূহ দেখিয়ে তাকে ভীত কর।
অতীত লোকদের ঘটনাবলী তার কাছে উপস্থাপন কর, এবং অতীতগামী লোকদের জীবনে কি নিপাতিত হয়েছিলো তা তাকে স্মরণ করিয়ে দাও, অতীতগামী লোকদের শহরে ভ্রমণ কর এবং তাদের ধ্বংসপ্রাপ্ত কৃত্তিসমূহ পযর্াবেক্ষণ কর, ভেবে দেখ তারা কী করেছিল, কী রেখে চলে গেছে, তারা কোত্থেকে প্রত্যাবর্তন করেছে এবং কোথায় অবতরণ করেছে?
তুমি দেখবে তারা বন্ধু-বান্ধব সব রেখে নিঃসঙ্গের চরাচরে চলে গেছে। সহসাই তুমিও তাদের মতো চলে যাবে ! সুতরাং তোমার ভবিষ্যত অবস্থানের জায়গাকে সুসজ্জিত কর। দুনিয়ার কাছে পরকালের জীবনকে বিক্রি করো না, যা তুমি জান না সে বিষয়ে কথা বলা থেকে পরিহার করো এবং যে বিষয়ে তোমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়নি সে বিষয়ে কথা বলো না। যে পথে গেলে পথভ্রষ্ট হবার সম্ভাবনা থাকে সেপথ থেকে দূরে থেকো। কেননা, পথহারা ও দিশাহারা অবস্থায় পথ চলা থেকে বিরত থাকা, ধ্বংস ও পতনে নিপাতিত হওয়া থেকে উত্তম।

সামাজিক নৈতিকতা
সৎকর্ম করতে অন্যদেরকে নির্দেশ দাও এবং তুমি নিজেও সৎকর্মপরায়ণ হও। তোমার হাত ও ভাষা দ্বারা অকল্যণকর্ম প্রতিহত কর এবং পাপাচারীদের থেকে দূরে থাকার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করো। আর আল্লাহর পথে যথার্থভাবে প্রচেষ্টা করো। তিরোস্কারকারীদের সমালোচনা যেন তোমাকে আল্লাহর পথে প্রচেষ্টা থেকে নিবৃত্ত না করে। যে কোন বিপদই হোক না কেন ন্যায়ের খাতিরে ঝাঁপিয়ে পড়ো এবং নিজের ধমর্ীয় পরিচিতিকে পরিপূর্ণতায় উপনীত কর। কষ্ট সহ্য করার অভ্যস করো; কারণ ন্যায়ের ব্যাপারে ধৈয্য চরিত্রের একটা উত্তম অভ্যস।
তোমার সকল কাজে নিজকে আল্লাহর উপর সোপর্দ করো ; কারণ এতে তুমি এক শক্তিশালী রক্ষাকর্তা ও নিরাপদ আশ্রয় পাবে। তোমার প্রভুর কাছে বিশুদ্ধভাবে প্রার্থনা করো ; কেননা, দেয়া-না দেয়া শুধুমাত্র তাঁরই হাতে। আল্লাহর কাছে যত পার মঙ্গল প্রার্থনা করো। আমার উপদেশ বুঝতে চেষ্টা করো এবং সহজে এটাকে এড়িয়ে যেয়ো না ; কেননা, সর্বোত্তম বাণী ওটা যেখানে উপকার পাওয়া যায়।
মনে রেখো ! যে জ্ঞান কোন উপকারে আসে না তাতে কোন কল্যাণ নেই এবং যে জ্ঞান উপকারে না তা অর্জনের কোন যৌক্তিকতা নেই।

সন্তান প্রতিপালনের গুরুত্ব
হে আমার পুত্র, যখন আমি লক্ষ্য করলাম যে, আমি যথেষ্ট বয়ঃপ্রাপ্ত হয়েছি এবং ক্রমেই আমি দুর্বল হয়ে পড়েছি তখনই আমি তাড়াতাড়ি করে তোমার জন্য আমার এ অসিয়াত লিখতে মনস্থ করলাম এবং নৈতিক মুল্যবোধ সমূহ তোমার জন্য বর্ণনা করলাম।
পাছে আমি যা তোমার কাছে প্রকাশ করতে চাই তার পূর্বেই অতর্কিতে মৃতু্য আমাকে পাকড়াও করে অথবা আমার দেহের মতো বুদ্ধিমত্তাও দুর্বল হয়ে পড়ে অথবা তোমার কামনা-বাসনা অথবা দুনিয়ার ঝলক তোমার প্রতি আক্রোমণ করে ফলে সত্য গ্রহণ ও প্রশিক্ষণ দুষ্কর হয়ে পড়ে। কেননা, একজন যুবকের হৃদয় উর্বর ভূমির মতো। যে কোন বীজ বপনের জন্য এটা অতি উপযোগী ক্ষেত্র।
তাই আমি তোমাকে প্রতিপালনের জন্য অতি ব্যস্ত হয়ে পড়েছি যাতে তোমার হৃদয় অনমনীয় হবার আগে অথবা তোমার মন অন্য কিছুতে পূর্ণ হবার আগে তুমি তোমার জ্ঞান-বুদ্ধির মাধ্যমে অন্যদের অভিজ্ঞতার ফসল আয়ত্ত করতে পার এবং এসব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নিজের কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে পার। এতে তুমি অভিজ্ঞতার অনুসন্ধানের কষ্ট ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিপদ এড়িয়ে যেতে পারবে। এভাবে আমরা যে অভিজ্ঞতা লাভ করেছি তা তুমি জানতে পারছো। যে সব কিছু বিষয় আমাদের কাছে গুপ্ত ছিল তাও তোমার কাছে যেন স্পষ্ট হয়ে যায়।
হে আমার পুত্র, যদিও আমি আমার পূর্ববতর্ীগণের মতো জীবনযাপন করে নি তবুও আমি তাদের কাজকর্ম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং তাদের জীবনের ঘটনা প্রবাহের ওপর গভীর চিন্তা করেছি। আমি তাদের ধ্বংসাবশেষের এমনভাবে মধ্যে ভ্রমণ করেছি ফলে তাদের মতো এক জন হয়েগেছি।
তাদের ইতিহাস অধ্যায়ণ করে মনে হলো যেন আমি তাদের প্রথম ব্যক্তি থেকে শুরু করে শেষ ব্যক্তিটি পর্যন্ত তাদের সাথে ছিলাম। সে জন্যই আমি তাদের আধারাচ্ছন্ন কাল থেকে আলোকিত ও সুখীজীবনের অধ্যায়টি আলাদা করতে সামর্থ হয়েছি এবং পতনকাল থেকে অগ্রগতিপূর্ণ কালটি চিহ্নিত করতে পেরেছি।
সে সব বিষয়ের সর্বোত্তম অংশ তোমার জন্য বেছে নিয়েছি এবং তাদের উত্তম বিষয়গুলো তোমার জন্য সংগ্রহ করেছি এবং তাদের অপ্রয়োনীয় অংশটুকু বাদ দিয়ে দিয়েছি। একজন দয়ালু পিতা যেভাবে কল্যাণ সমূহ তার সন্তানের জন্য বেছে নেয় ; আমি সেরকমভাবে তোমাকে উত্তমরূপে গড়ে তুলতে চাই। কেননা, যেহেতু তুমি বয়ঃপ্রাপ্ত হতে যাচ্ছো এবং এ দুনিয়ার রঙ্গমঞ্চের প্রতি তুমি নবযাত্রী। অপরদিকে এই সময়ে তুমি পবিত্র অন্তর ও স্বচ্ছ মনের অধিকারী।
সন্তান প্রতিপালনের পদ্ধতি
এজন্যই প্রশিক্ষণের শুরুতে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি মহান আল্লাহর কিতাব থেকে বিভিন্ন আয়াত ব্যাখ্যাসহ তোমাকে শিক্ষা দেব। ইসলামী বিধি-বিধান, আদেশ-নিষেধ, হালাল-হারাম শিক্ষা দেব এর বাইরে আমি যাব না।
তারপরও আমার ভয় হয় অন্য লোকেরা যেভাবে তাদের কামনা-বাসনা ও নানান মতের কারণে বিভ্রান্ত হয়েছে তোমার প্রতি তেমনটি আক্রমণ করে কিনা। যদিও এবিষয় সম্পর্কে আপাতত তোমাকে অবগত করাটা আমার পছন্দীয় নয় তারপরও তোমাকে সর্তক করা এবং সৃদৃঢ় করাকে প্রাধান্য দিয়েছি। যাতে তুমি সামাজিক অধঃপতনের স্বীকার না হও। আমি আশা করি সরল-সঠিক পথে চলতে মহান আল্লাহ তোমাকে সাহায্য করবেন এবং স্থির সংকল্পে তিনি তোমাকে পথ-প্রদর্শন করবেন।
অতএব, আমি আমার এ অসিয়াত তোমার জন্য এভাবে সাজিয়েছি।
বৎস! জেনে রেখো, আমার এ অসিয়াত থেকে যা গ্রহণ করলে আমি সব চাইতে খুশি হবো তা হলো – আল্লাহকে ভয় করা, আল্লাহ্র ফরজ দায়িত্ব সমূহ, এবং তোমার পূর্ব-পুরুষদের কর্মপন্থা অনুসরণ করা ও তোমার পরিবার পরিজনদের সৎকর্মশীল ব্যক্তিরা যেপথে চলেছেন সেপথে অবিচল থাক। কেননা, তুমি তোমার নিজের সম্পর্কে যেভাবে বিবেচনা কর ঠিক তারাও এভাবেই দেখতো। তুমি যেভাবে নিজ সম্পর্কে চিন্তা কর; তারাও ঠিক এভাবেই তাদের ব্যাপারে চিন্তা করতো। তাদের প্রচেষ্টা এটাই ছিল যে জ্ঞান ও পরিচিতির ভিত্তিতে চলবেন। যেবিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি সেবিষয় থেকে নিজকে সরিয়ে রাখতেন। তোমার মন যদি এটা গ্রহণ করতে না চায় এবং তাদের মতো করে জানার ইচ্ছা পোষণ করে। তাহলে চেষ্টা কর যাতে তোমার এ আবেদনগুলো যেন জ্ঞান ও উপলদ্ধিভিত্তিক হয়। এমনটি যেন না হয় যে ধারণাভিত্তিক বা শত্রুতার রেষ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছো।
পবিত্র মানবদের পথ পরিক্রম করার পূর্বে মহান প্রভুর নিকট সাহায্য প্রার্থনা কর, এবং তাদের পথে আগ্রহ সহকারে দায়িত্ব পালন কর। আর যেসব বিষয় তোমাকে সন্দেহ ও বিভ্রান্তিতে অবনত করে তা থেকে নিজকে সম্পূর্ণ দূরে রাখ।
আর যখন তুমি নিশ্চিত হবে যে, তোমার হৃদয় স্বচ্ছ ও বিনয়ী হয়েছে এবং তোমার চিন্তা শক্তি পূর্ণতা লাভ করে একগ্রতা অর্জন করতে পেরেছো এবং তোমার ইচ্ছাশক্তি একটা বিষয়ের এক বিন্দুতে স্থির হয়েছে। তখন তুমি চিন্তা করবে আমি যা তোমাকে ব্যাখ্যা করেছি। আর যদি এপথে তোমার কাংঙ্খিত উপকরণ সঞ্চয় করতে সামর্থ হওনি এবং তোমার চিন্তা-চেতনাকে প্রশান্ত অবস্থায় পাওনি। তবে জেনে রেখো, তুমি অনিশ্চত ও বিপদজনক পথে চলছো এবং অন্ধকার পথে নিপাতিত হচ্ছো। কেননা, একজন ধার্মিক মানুষ কখনো ভুল করে না এবং সন্দেহ ও দিশাহারা হয়ে পথ চলে না। এমতাবস্থায় পথ চলা থেকে বিরত থাকাই উত্তম।

আধ্যাত্মিক বিষয়ে মনযোগী হওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ
বৎস, আমার উপদেশসমূহে গভীরভাবে চিন্তা কর এবং মনে রেখো যিনি মৃতু্যর অধিকর্তা তিনি জীবনেরও মালিক এবং তিনিই স্রষ্টা ও মৃতু্য ঘটান। যিনি জীবনের বিনাশ ঘটান তিনিই আবার জীবনের সূচনা করেন এবং যিনি রোগে আক্রান্ত করেন আবার তিনিই আরোগ্য দান করেন।
জেনে রাখো, এ পৃথিবী অবিনশ্বর নয়, যেভাবে আল্লাহ্ চেয়েছেন সেভাবেই চলছে, বিভিন্ন কল্যাণ দানের ক্ষেত্রে, বিভিন্ন পরীক্ষা ক্ষেত্রে, পরকালে প্রতিদান দেওয়ার ক্ষেত্রে এবং আরও যাকিছু তিনি ইচ্ছা করেছেন তা তুমি তা জান না।
যদি এবিশ্ব ও তার উত্থান-পতন সম্পর্কে কোন কিছু বুঝতে না পার, তাহলে সেটাকে তোমার অজ্ঞতার কারণ বলে মনে করো। কেননা, তুমি প্রথমেই জ্ঞানশূণ্য অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেছিলে। অতপর তুমি জ্ঞান অর্জন করেছিলে। এমন অনেক বিষয় আছে যা তুমি জান না [কিন্তু আল্লাহ জানেন] এবং এসব ক্ষেত্রে তোমার চিৎশক্তি দিশাহারা আর তোমার দৃষ্টিশক্তিও এখানে অকেজো। তারপরও তুমি ওগুলোকে জানবে! সুতরাং তাঁর কাছে আশ্রায় গ্রহন কর যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, তোমাকে আহার দিচ্ছেন এবং তোমাকে সুসম অবয়বে গঠন করেছেন। তোমার ইবাদত কেবল তাঁরই জন্য হবে, তোমার একাগ্রতা একমাত্র তাঁর প্রতিই নিবদ্ধ থাকবে এবং তাঁকেই ভয় করবে।
বৎস, জেনে রাখো! মহানবী (স.) যেভাবে মহিমান্বিত আল্লাহ্ সম্পর্কে জ্ঞান দান করেছেন, আর কেউই এমন খোদা পরিচিতির জ্ঞান দেয়নি। সুতরাং নেতৃত্বকে মাথায় তুলে নাও এবং তোমার মুক্তির জন্য তাঁর পথনির্দেশনাকে মেনে চলো। নিশ্চয়ই, তোমাকে উপদেশ দিতে আমি আমার চেষ্টার ত্রুটি করবো না এবং নিশ্চয়ই তুমি চেষ্টা করেও সে অন্তদর্ৃষ্টি তোমার কল্যাণের জন্য লাভ করতে পারবে না যা আমি তোমাকে দিতে পারবে।
বৎস! জেনে রাখো, তোমার প্রভুর কোন অংশীদার নেই। যদি থাকতো তবে তার নবীও তোমাদের কাছে আসতো এবং সে ক্ষেত্রে তুমি তার কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা, কাজ ও গুণাবলী জানতে পারতে। কিন্তু তিনি এক মাবুদ যেহেতু তিনি নিজেই তাঁর বর্ণনা করেছেন। তাঁর কর্তৃত্বে কেউ আপত্তি উত্থাপন করার নেই। তিনি অনাদি অতীত থেকে অনন্ত ভবিষ্যতে আছেন।
তিনি সকল কিছুর পূর্বে আছেন এবং তাঁর কোন সূচনা নেই। তিনি সব কিছুর পরেও থাকবেন, তাঁর কোন সমাপ্তি নেই, তিনি এমনই শ্রেষ্ঠ যে পালনকর্তাও মহত্ত্বকে চিন্তা ও অন্তর উপলব্ধি করতে সক্ষম নয়।
যেহেতু এসব রহস্য তুমি বুঝতে পেরেছো তাই কার্জক্ষেত্রে তুমি এখন এমনই চেষ্টা করবে যা তোমার মত [জ্ঞাত] মানুষের চেষ্টা করা উচিত।
পরকালমুখী হওয়ার গুরুত্ব
সে বৎস ! আমি তোমাকে এ দুনিয়ার অবস্থা, এর ধ্বংস এবং এটা একজনের হাত থেকে অন্যের হাতে ঘোরার বিষয় সম্বন্ধে অবহিত করেছি। পরকাল সম্পর্কে এবং মানুষের জন্য সেখানে কী ব্যবস্থা রাখা হয়েছে তাও আমি তোমাকে অবহিত করেছি ; আর প্রত্যকটির জন্য অনেক উদহারণ উপস্থাপন করেছি। যাতে তুমি তা থেকে উপদেশ গ্রহণ করতে পার এবং জীবন-যাপনের পদ্ধতি শিখতে পার।
যারা দুনিয়াকে বুঝতে পেরেছে তাদের উদহারণ হলো সেসব যাত্রীর মতো যারা খরাপীড়িত ও কঠিন অবস্থায় বাস করছে এবং এস্থান থেকে তারা এমন এক অঞ্চলে অবতরণ করবে যেখানে সমস্ত প্রকারের আরাম-আয়েশ ও উপভোগের সকল উপকরণ প্রস্তুত করা হয়েছে।
এমতাবস্থায় তারা তাদের কাঙ্খিত স্থানে পৌঁছার জন্য পথের সকল কষ্ট সহ্য করবে এবং বন্ধু-বান্ধবদের বিচ্ছেদ বেদনাকে তুচ্ছজ্ঞান করবে, ভ্রমণের কষ্ট ও অন্ন কষ্ট সব মনেপ্রাণে সহ্য করবে। যাতে তারা সুবিসতৃর্ণ ও নিরাপদ অবস্থানে নিশ্চিন্তে শান্তিতে পা রাখতে পারে। তাই তারা তাদের এ দীর্ঘ যাত্রার কষ্ট থেকে কোন বেদনা অনুভব করবে না এবং এ যাত্রার কোন ব্যয়কে তারা অপচয় মনে করে না। তখন তাদের কাছে ঐ নিরাপদ আবাস ও শান্তির নগরে পৌছানোর মতো প্রিয় আর কোন কিছুই থাকে।
অপরপক্ষে দুনিয়াদার মানুষদের উদহারণ হলো সেসব লোকের মতো যারা শস্যপূর্ণ স্থান থেকে বিরক্ত হয়ে খরাপীড়িত এলাকায় চলে যেতে চায়। ফলে তাদের কাছে সেস্থান ত্যাগ করা অপেক্ষা বিস্বাদের আর কিছু নেই। আর তারা সেখানে যেতেই কষ্ট সহ্য করে।

সামাজিক সম্পর্কের মানদন্ড সমুহ
হে আমার সন্তান ! অন্য লোক ও তোমার মাঝে নিজেকেই আচরণের মাপকাঠি নির্ধারণ করো। সুতরাং তুমি নিজের জন্য যা পছন্দ কর অন্যের জন্যেও তা পছন্দ করো এবং নিজের জন্য যা ঘৃণা কর অন্যের জন্যও তা ঘৃণা করো। কখনো অত্যাচার করো না যেভাবে তুমি নিজে কখনো অত্যাচারিত হতে চাও না।
অন্যের কল্যাণ করো যেভাবে তুমি অন্যের থেকে কল্যাণ পেতে চাও। তোমার নিজের জন্য যা মন্দ মনে কর অন্যের জন্যও তা মন্দ মনে করো। অন্যদের সেরকম ব্যবহারে তুমি সন্তুষ্ট হও, তোমার যে আচরণে তারা সন্তুষ্ট থাকে।
যা তুমি জান না সে বিষয়ে কথা বলো না, এমন কি যা তুমি অল্প জান সে বিষয়েও না। তোমার কাছে যা বলা তুমি পছন্দ কর না সে রকম কথা অন্যদেরও তুমি বলো না। মনে রেখো, আত্ম-প্রশংসা শোভনতার বিপরীত এবং প্রজ্ঞাশক্তির জন্য একটা রোগ। সুতরাং তোমার জীবনে সর্বাত্মক চেষ্টায় লিপ্ত হও এবং অন্য কারো জন্য সম্পদ গচ্ছিত করার চিন্তায় থেকো না। এভাবে যখন তুমি সঠিকপথে পরিচালিত হবে তখন যতটুকু পার আল্লাহর কাছে সকল ক্ষেত্রে বিনীত ও আনত হয়ো।

পরকালে যাত্রার পাথেয় সঞ্চয় ও প্রচেষ্টা
মনে রেখো, তোমার সম্মুখে অতিদীর্ঘ ও চরম কষ্টের পথ রয়ে গেছে এবং সে পথ যথাচিত প্রচেষ্টা ব্যতীত তুমি অতিক্রম করতে পারবে না। তোমার পাপের বোঝাকে হালকা করো ও সে পথের পাথেয় সংগ্রহ করো এবং অত্যাধিক প্রচেষ্টা করো নতুবা এপথ অতিক্রম করতে সক্ষম হবে না।
তোমার ক্ষমতার বেশী বোঝা (দায়িত্ব) পিঠে নিয়ো না। কেননা বোঝার ভার তোমার জন্য শাস্তি হয়ে দাঁড়াবে। আর যখন কোন অভাবি লোকের দেখা পাবে যে তোমার বোঝাকে কেয়ামত পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারবে এবং আগামী কাল তোমার প্রয়োজনে সে তা ফিরিয়ে দেবে ; এ সুযোগ হাত ছাড়া না করে তোমার বোঝা ও পাথেয় তার ঘাড়ে চাপিয়ে দাও। তাই তোমার আর্থিক অবস্থা ভালো থাকলে বেশী বেশী দান করে তার সাথে পাঠাও। কেননা, কেয়ামতের দিন হয়ত এমন মানুষের প্রয়োজনে ঘুড়ে বেড়াবে কিন্তু খুঁজে পাবে না।
তোমার স্বচ্ছল অবস্থায় কেউ যদি কিছু ঋণ নিতে চায় তবে এ সুযোগ হাত ছাড়া করো না। যাতে তোমার কঠিন ও অভাবের দিনে সে তোমাকে ফেরত দেবে।
বৎস, জেনে রাখো, তোমার সামনে অনেক দূরতিক্রম্য উপত্যকা রয়েছে। তাই [এ পথে যাত্রায়] ভারী বোঝা বহনকারী লোকের চেয়ে হালকা বোঝা বহনকারী লোক অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থায় থাকবে। [এ পথে যাত্রায়] দ্রুতগামীদের চেয়ে ধীরগামীরা খারাপ অবস্থায় পড়বে। এ পথে তোমার প্রান্তিক স্থান হলো বেহেশত ; না হয় দোযাখ। সুতরাং পরকালে পৌঁছানোর আগেই নিজের জন্য উপকরণ সমূহ সংগ্রহ কর। তোমার ওখানে যাওয়ার পূর্বে ঐ স্থান প্রস্তুত কর, [কেননা, মৃতু্যর পর কোন প্রকার প্রস্তুতি নিতে পারবে না] এবং এ দুনিয়ায় ফিরেও আসার কোন পথ থাকবে না।

প্রভুর রহমতের নিশানা সমূহ য
মনে রেখো, যিনি আসমান ও ভূ-পৃষ্ঠের সম্পদ সমূহের মালিক তিনি তোমাকে তাঁর কাছে প্রার্থনা করার অনুমতি দিয়েছেন এবং তোমার প্রার্থনা কবুল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি তোমাকে আদেশ দিয়েছেন তাঁর কাছে যাচনা করতে যাতে তিনি তোমাকে দিতে পারেন এবং তাঁর দয়া ভিক্ষা করতে যাতে তিনি তোমার ওপর তাঁর রহমত বর্ষণ করতে পারেন। তোমার আর তাঁর মধ্যে তিনি কোন কিছু রাখেন নি যাতে তাঁর ও তোমার মধ্যে ব্যবধান বা অন্তরাল হতে পারে। তোমার ও তাঁর মধ্যে কোন মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন তিনি রাখেন নি এবং যদি তুমি কোন ভুল কর তিনি তওবা করার পথ তোমার জন্য রুদ্ধ করে দেন নি। তিনি তোমাকে শাস্তি প্রদানে তাড়াহুড়া করেন না। তিনি তওবা করে প্রত্যাবর্তন করাকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন নি।
এবং যেখানে তোমাকে অপদস্থ করা যথার্থ হয়ে পড়ে তখন তিনি অপদস্থ করেন নি এবং তওবা কবুল করতে কখনো তিনি কঠিন শর্তারোপ করেন নি। তোমার পাপকর্মের জন্য জরুরী আদালতে নিয়ে শাস্তির ব্যবস্থা করেন নি। তাঁর দয়া থেকে তিনি কখনো তোমাকে নিরাশ করেন নি।
বরং পাপকর্ম থেকে ফিরে আসাকে তিনি পূণ্য হিসাবে গ্রহণ করেন। তোমার একটা পাপকে একটা হিসাব করেন ; অপরপক্ষে একটা পূণ্যকে দশটা হিসাবে গণনা করেন। তিনি তোমার [ফিরে আসার] জন্য তওবার দরজা খোলা রেখেছেন। কাজেই যখনই তুমি তাঁকে ডাক তিনি তোমার ডাক শুনতে পান এবং যা তুমি মনে মনে বলো তিনি তাও শুনতে পান। তুমি তাঁর সম্মুখে তোমার অভাবকে ব্যক্ত কর, তোমার অন্তরের সকল কথা তাঁর কাছে প্রকাশ কর, তোমার দুঃখ-দূদর্শার কথা তাঁর কাছে বলো। যাতে তোমার দুঃখ-কষ্ট তিনি লাঘব করে দিবেন এবং সমস্যাসমূহ সমাধানে সাহায্য করবেন।

প্রার্থনা মঞ্জুর হওয়ার শর্তাবলী
তাঁর করুণার ভান্ডারসমূহ থেকে এমন কিছু চাও যা তিনি ব্যতীত অন্য কেউ দিতে পারবেন না। যেমন-দীর্ঘায়ূ, সুস্বাস্থ্য ও রিজিক বৃদ্ধি। তারপর তিনি তাঁর ভাণ্ডারের চাবিসমূহ তোমার হাতে দেবেন, আর তা হল তিনি তোমাকে প্রার্থনা করার এই অনুমতি দিয়েছেন। সুতরাং যখনই তুমি ইচ্ছা করবে প্রার্থনার দ্বারা প্রভুর রহমতের দরজা খুলতে পারবে এবং এর ফলে রহমতের বারিধারা তোমার উপর বর্ষিত হবে।
তোমার প্রার্থনা মঞ্জুর হতে বিলম্ব হলে কখনো হতাশ হয়ো না। কেননা তোমার নিয়াতের ভিত্তিতেই প্রার্থনা মঞ্জুরী হয়ে থাকে। কখনো কখনো যাচনাকারীকে অধিক পুরস্কার ও পূর্ণরূপে দানের উদ্দেশ্যেই প্রার্থনা বিলম্বে মঞ্জুর হয়ে থাকে। আবার কখনো তুমি হয়ত কিছু যাচনা করেছো কিন্তু তা তোমাকে দেয়া হয় নি।
কেননা, তুমি দেখবে অতিশীঘ্রিই অথবা নির্ধারিত সময়ে হয় তোমাকে যাচনাকৃত জিনিসটি অপেক্ষা উত্তম কিছু দেয়া হয়েছে। অথবা তোমাকে যাচনাকৃত জিনিসটি অপেক্ষা উত্তম কিছু দেয়ার কারণে তোমার প্রার্থনা কবুল হয় নি। কেননা, তোমার চাওয়া জিনিস সমূহ যদি দেওয়া হতো তাহলে হয়তবা তোমার ধমর্ীয় জীবনে পতন নেমে আসতো। অতএব প্রভুর কাছে এমন কিছু চাইতে হবে যার সৌন্দর্য তোমার জন্য স্থায়ী হবে এবং তোমার থেকে দুঃখ-কষ্ট দুর করবে। সুতরাং সহয়-সম্পদ তোমার জন্য স্থায়ী নয় আর তুমিও এই দুনিয়ার সহয়-সম্পদের জন্য টিকে থাকবে না।
মৃতু্যকে স্মরণ করার গুরুত্ব
হে আমার সন্তান! মনে রেখো, পরকালের জন্য তোমাকে সৃষ্টি করা হয়েছে-দুনিয়ার জন্য নয়। তোমাকে সৃষ্টি করা হয়েছে এ দুনিয়ার থেকে প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে; এখানে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য নয়। [তোমাকে পৃথিবীতে অবস্থান দেওয়া হয়েছে ] মৃতু্যর জন্য, অনন্তকাল দুনিয়াতে বেঁচে থাকার জন্য নয়। তাই যেকোন মুহুর্তে তুমি দুনিয়া থেকে প্রত্যাবর্তিত হতে পারো এবং পরকালে যেয়ে উপস্থিত হবে। [এটা প্রস্তুতি নেয়ার ঘর] এবং পরকালের দিকে যাত্রার পথ। তোমাকে মৃতু্য দ্বারা পাকড়াও করা হবে এবং এ থেকে পালিয়ে নিস্তার পাবার কোন উপায় নেই। কারণ যে কাউকে পরাভুত করতে মৃতু্য ক্ষমতাবান।
সুতরাং মৃতু্য থেকে সর্বদা সতর্ক থাক! এজন্য যে পাপাচারে লিপ্ত অথবা তওবা করার অপেক্ষায় থাকাকালে মৃতু্য যেন তোমাকে গ্রাস না করে। অতপর তোমাকে মৃতু্য সে সুযোগ না দিয়ে তোমার ও তওবার মাঝে চিরদিনের জন্য ব্যবধান রেখে যাবে। এমনটি হলে তুমি নিজকেই ধ্বংস করবে।
পুত্র আমার! মৃতু্যকে বেশি বেশী স্মরণ করো এবং যেদিকে তুমি অগ্রসর হচ্ছো সেসম্পর্কে সর্বদা চিন্তা কর। আরও চিন্তা কর মৃতু্য আসার পর হঠাৎ তোমাকে কোন্ স্থানে চলে যেতে হবে সে সম্পর্কে । মৃতু্যর আগমুহুর্ত পর্যন্ত এভাবে তুমি সমস্ত দিক থেকে প্রস্তুত থাক। এভাবে তোমাকে শক্তি বৃদ্ধি কর এবং সাহসীকতার সাথে অবস্থান কর তাহলে মৃতু্যর হঠাৎ আগমনে তুমি পরাজিত হবে না। সাবধান , দুনিয়াদার লোকদের দুনিয়ার প্রতি চরম আসক্তি এবং পৃথিবীর প্রতি তাদের লোভাতুর আগ্রাসন তোমাকে যেন প্রতারিত না করে। কেননা, এসকল বিষয় সম্পর্কে আল্লাহ্ তোমাকে অবগত করে দিয়েছেন। আর স্বয়ং দুনিয়াও তার অবস্থা সম্পর্কে তোমাকে অবহিত করেছে, এবং নিজের কলুষিত রূপ হতে তোমার কাছে আবরণ উম্মোচিত করেছে।
দুনিয়াদার লোকদের চেহারা
নিশ্চয়ই, দুনিয়ার লোকেরা হিংস্র কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ করতে করতে শিকারীর পিছে ছুটে বেড়ায়। কোন কোনটা অন্যদের উপর আক্রোমণ করে ; এদের শক্তিশালীরা দুর্বলকে খেয়ে ফেলে এবং বড়গুলো ছোটগুলোকে পদদলিত করে। এরা এমন এক উটের পালের ন্যায় যাদের কতেক পা বাধাঁ অবস্থায়, আর কতেক ফাঁকা বিশাল মাঠে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, এরা পথ হারিয়ে অজানা পথে ছুটে চলেছে। তারা দূর্যোগপূর্ণ প্রান্তরে এবং বালুময় চরণভুমিতে যেখানে পথচলার গতি একবারে ধীর হয়ে আসে সেখানে আটকা পড়েছে। তাদের চারণভূমিতে নিয়ে যাওয়া অথবা বাধা দেয়ার মতো কোন রাখাল নেই।
এ দুনিয়া তাদেরকে অন্ধ করে রেখেছে এবং হেদায়েতের রশ্মি থেকে দাদের চোখে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। সে জন্য তারা বিভ্রান্তিতে ঘুরপাক খাচ্ছে এবং দুনিয়ার আনন্দে ডুবে আছে। তারা দুনিয়াকে তাদের খোদা মনে করে আর দুনিয়া তাদের সাথে খেলা করছে ; তারাও দুনিয়ার সাথে খেলায় মগ্ন হয়ে আছে। তারা পরকালকে ভুলেগেছে। সামান্য সুযোগ দাও, অন্ধকারাচ্ছন্নতা ক্রমশ দূরীভূত হয়ে যাচ্ছে। এখন এটা এরূপ যেন ভ্রমণকারীরা নিজ গৃহে এসে পৌছে যাবে আর যারা দ্রুতগামী হবে কাফেলায় পৌছাতে পারবে। হে বৎস, জেনে রাখো, যে রাত ও দিনে নিজের বাহনকে প্রস্তুত রেখেছে সে সার্বক্ষণিকভাবে পথ অতিক্রম করছে যদিও সে নিজেকে স্থির ভাবে এবং সে যদি নিজস্থানে দাড়িয়ে ও আরামে থাকেও (তবু সে দূরত্ব অতিক্রম করে চলছে)।

জীবনে বাস্তবমুখী হওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ
নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো, তুমি তোমার সকল আকাঙ্খা পূরণ করতে পারবে না এবং নির্দিষ্ট সময়ের অধিক জীবনযাপন করতে পারবে না। তুমি তাদের পথেই চলেছো যারা তোমার পূর্বে এপথে ছিল। সুতরাং পার্থিব উপকরণ সঞ্চয়ে নমনীয় হও এবং যা অর্জন করেছো তা ব্যবহারে উত্তমপন্থা অবলম্বন কর। কেননা, পার্থিব উপকরণ সঞ্চয়ে অতিশয় বাড়াবাড়ি অনেক সময় লুটতরাজের পরিণতি বয়ে আনে। সুতরাং জীবিকার প্রত্যেক অনুসন্ধানকারী তাদের কাঙ্খিত জীবিকা লাভ করতে পারে না এবং কোন মধ্যপন্থী অনুসন্ধানকারী তার জীবিকা হতে বঞ্চিত হয় না। প্রতিটি নিচ জিনিস থেকে নিজকে দূরে সরিয়ে রেখো যদিও বা এসব নিচ জিনিস তোমাকে তোমার ইপ্সিত লক্ষ্যে পেঁৗছাতে পারে; কারণ তুমি নিজের যেপরিমাণ সম্মান নষ্ট করছো তার সমপরিমাণ মূল্য অর্জন করতে পারবে না। অন্যের গোলাম হয়ো না ; কারণ আল্লাহ তোমাকে স্বাধীন জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। যে ‘কল্যাণ’ মন্দ মাধ্যম ব্যতীত অর্জিত হয় না তাতে কোন কল্যাণ নেই এবং গর্হিতপন্থায় কষ্টের মাধ্যমে যে আয়েশ অর্জিত হয় তাতেও কোন শান্তি নেই। সাবধান, লালসার বাহন যেন তোমাকে নিয়ে ধ্বংসের ঝরনায় নামিয়ে না দিতে পারে। যদি তুমি পার তোমার নিজের ও আল্লাহর মাঝে কোন সম্পদশালীকর্তা উপস্থিত না করে চলতে তাহলে তাই কর। কেননা, তুমি তোমার জীবিকা পাবেই; তুমি তোমার অংশ লাভ করবে। মহিমান্বিত আল্লাহর কাছ থেকে সামান্য কিছু পাওয়া তাঁর বান্দার কাছ থেকে অনেক পাওয়া অপেক্ষা অনেক বেশী ও মর্যাদাশীল। যদিও সবই সবকিছুই মহান আল্লার।

তুমি নীরব থেকে যা হাতছাড়া করেছো তা অপেক্ষা যা কথা বলে হাতছাড়া হবে অনেক সহজতর । কেননা, যাকিছু মশকে আছে তার মুখ শক্ত করে আটকে দেওয়ার মাধ্যমে তা সংরক্ষণ করা যায়। তোমার হাতে যা আছে তা রক্ষা করা অন্যের হাতে যা আছে তা চাওয়া অপেক্ষা উত্তম ও পছন্দনীয়। অন্যের কাছে যাচনা করা অপেক্ষা নৈরাশ্যের তিক্ততা অনেক ভালো। অন্যায়ভাবে হাতে আসা অঢেল সম্পদ অপেক্ষা সততার সাথে পরিশ্রম করা অনেক ভালো। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজেই তার গোপন রহস্যের সর্বোত্তম প্রহরী।
যা ক্ষতিকর তার জন্য মানুষ অনেক সময় সংগ্রাম করে। যে বেশী কথা বলে সে বোকার মতো কথা বলে। যে ভেবে দেখে সে উপলব্ধি করতে পারে। ধার্মিক লোকদের সাথে মেলামেশা করো; তাতে তুমিও তাদের একজন হয়ে যাবে। পাপী লোক থেকে দূরে সরে থেকো, তাতে তুমি নিরাপদ থাকতে পারবে। হারাম খাদ্য সর্বাধিক নিকৃষ্টতম বস্তু। দুর্বলের প্রতি অত্যাচার নিকৃষ্টতম অত্যাচার।
যেখানে কোমলতাকে কঠোরতা মনে করে সেখানে কোমলতার পরিবর্তে কঠোর আচরণ কর। অনেক সময় চিকিৎসাই পীড়া বৃদ্ধি করে আর পীড়াই চিকিৎসার ভুমিকা পালন করে। অনেক সময় অশুভাকাঙ্খী সঠিক উপদেশ দেয় এবং শুভাকাঙ্খীও প্রতারণা করে। কখনো আশার ওপর নির্ভরশীল হয়ো না, কারণ আশা হচ্ছে বোকার সম্পদ। কারো অভিজ্ঞতা সংরক্ষণ করা জ্ঞানের পরিচায়ক তোমার সবের্াৎকৃষ্ট অভিজ্ঞতা হলো তা, যা তোমাকে উত্তম উপদেশ দেয়।
সুযোগ হাতছাড়া করে আফসোস্ করার আগে এর সৎব্যবহার করো। সকল যাচনাকারী যা চায় তা পায় না এবং সকল প্রস্থানকারী আর ফিরে আসে না। পরকালের সহায় ও উপকরণসমুহ নষ্ট করার মানেই হলো ধ্বংস প্রাপ্ত হওয়া।
প্রত্যেকটি বিষয়ের একটা পরিণতি আছে। যা তোমার জন্য নির্ধারিত তা সহসাই তোমার কাছে এসে পৌছাবে। একজন ব্যবসায়ী ঝুঁকি গ্রহণ করবেই। অনেক সময় ক্ষুদ্রও বৃহৎ পরিমাণ অপেক্ষা উত্তম। যেভাবে একজন ইতর লোককে সাহায্য করে কোন লাভ নেই ঠিক তেমনী সন্দিহান বন্ধুর বন্ধুত্বে কোন মঙ্গল আশা করা যায় না। দুনিয়া যখন তোমার মুষ্টিগত থাকে তখন নমনীয় হও এবং আরো বেশি পাওয়ার আশায় নিজেকে ঝুঁকিতে ফেলো না। শত্রুতার অনুভূতিতে ভর করে চলা থেকে বিরত থাকো।

বন্ধুদের অধিকার
যখন তোমার কোন ভ্রাতা তোমার থেকে বিছিন্ন হয়ে যায় তখন তুমি তার সাথে সম্পর্কের বন্ধন প্রতিষ্ঠা কর। আর যদি সে ফিরে আসে তাহলে তার প্রতি সদয় থেকো। যদি সে কার্পণ্যতা করে তাহলে তুমি তার প্রতি দানশীল হও। যখন সে তোমার থেকে দুরে অবস্থান করতে চায় তখন তুমি তার নিকটাবতর্ী হও। যখন সে কঠোর হয় তখন তুমি কোমল হয়ে যেয়ো। যখন সে ভুল করে তখন তার ওজর বের করার চিন্তা এমনভাবে করো যেন তুমি তার একজন দাস এবং সে তোমার সদাশয় প্রভু।
সাবধান! এ উপদেশসমূহ তার যথাস্থান (প্রকৃত বন্ধুর ক্ষেত্রে) ব্যতীত কাজে লাগাবে না এবং কোন অবাঞ্চিত ব্যক্তির প্রতি এরূপ আচারণ করো না। তুমি তোমার বন্ধুর শত্রুকে কখনো বন্ধু মনে করো না যাতে তোমার বন্ধুর সাথে শত্রুতার সৃষ্টি না হয়। তোমার ভাইকে সত্য ও সঠিক উপদেশ দিয়ো- তার কাছে এটা সুুখকর বা তিক্তদায়ক হোক। ক্রোধকে গিলে ফেলো কারণ এর চেয়ে মধুর আর কোন কিছু আমি উপভোগ করিনি এবং পরিণামে এর চেয়ে আনন্দদায়ক ও ফলদায়ক আর কিছু নেই।
যে তোমার প্রতি কঠোর আচারণ করেছে তার প্রতি কোমল থেকো। কারণ এতে সে শীঘ্রই তোমার প্রতি কোমল হয়ে যেতে পারে। তোমার শত্রুর সাথে দয়াশীল আচারণ করো। এতে দুটো কৃতকার্যতার ফল তুমি পাবে-একটা হলো প্রতিশোধের কৃতকার্যতা এবং অপরটা হলো দয়া করার কৃতকার্যতা।
যদি তুমি মনে কর কোন বন্ধুর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে তবে তোমার দিক থেকে তাকে কিছু সুযোগ দিয়ো যাতে সে পুনরায় কখনো যেন বন্ধুত্ব পুনরুজ্জীবিত করতে চাইলে পারে। যদি কেউ তোমার সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করে তবে তা সত্য প্রমাণ করো। কখনো তোমার ভাইয়ের সাথে তোমার সম্পর্ক বিবেচনা করে কখনো তার অধিকারকে ক্ষুন্ন করো না।
কারণ তার স্বার্থের প্রতি অবজ্ঞা করলে সে তোমার ভাই থাকবে না। তোমার পরিবারের লোকেরা যেন তোমার দ্বারা দুর্দশাগ্রস্থ না হয়। তোমার প্রতি যার টান নেই তুমি তার প্রতি আশান্বিত হয়ো না। তোমার ভ্রাতা যেন তোমার সাথে বন্ধুত্বের বন্ধন বিছিন্ন করতে ততটুকু যুক্তি ও প্রমাণাদি উপস্থাপন না করে যা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেয়ে অধিক শক্তিশালী হয়। অথবা সে তোমার সাথে ভালো আচারণ না করে খারাপ আচারণ করার জন্য শক্তিশালী অজুহাত উপস্থাপন করে। যে ব্যক্তি তোমার প্রতি অত্যাচার করে তার অত্যাচারকে বড় একটা কিছু মনে করো না কারণ সে শুধুমাত্র নিজের ক্ষতি ও তোমার উপকারেই প্রবৃত্ত আছে। যে তোমাকে খুশি করে তার পুরস্কার যেন তাকে অষুশি করার মধ্যে না হয়।

নৈতিক মুল্যবোধ সমূহ
সে আমার সন্তান! জেনে রাখো, জীবিকা দু’প্রকার-এক প্রকার জীবিকা যা তুমি অনুসন্ধান কর এবং অন্যপ্রকার জীবিকা যা তোমাকে অনুসন্ধান করে। শেষোক্তটা এমন যে, যদি তুমি তার কাছে পেঁৗছাতে না পার তবে তা তোমার কাছে পেঁৗছবে। প্রয়োজনের সময় কাকুতি-মিনতি আর সম্পদ পেলে কঠোর হওয়া কতই না মন্দ ! এ দুনিয়া থেকে তোমার শুধু সেটুকু পাওয়া উচিত যা দিয়ে তুমি তোমার স্থায়ী আবাস পরকালকে সাজাতে পার; যা তোমার হাত ছাড়া হয়ে গেছে তার জন্য যদি তুমি দুঃখিত হও তাহলে যাকিছু এখনো তোমার কাছেই আসে নি তার জন্য উদ্বিগ্ন থাক।
যাকিছু পূর্বে (ঘটে গেছে) তুমি দেখেছে এবং শুনেছো তাদ্বারা যা এখনো ঘটেনি এ দুটো পর্যলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করো, কারণ জীবনের ঘটনাপ্রবাহ প্রায় একই রকম। তুমি তাদের মত হয়ো না যাদের উপদেশ কোন উপকারে আসে না ; বহুবার ঠাকা ব্যতীত। কেননা, বুদ্ধিমান মানুষ উপদেশ ও আচারণের দ্বারা শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে ; আর পশুরা আঘাত প্রাপ্ত হওয়ার পর। আত্মবিশ্বাস ও ধৈর্যের দৃঢ়তা দ্বারা উদ্বিগানতা ও অস্থিরতার আক্রমণ থেকে নিজকে দুরে রাখ। যে মধ্যমপন্থা পরিহার করে সে সত্যপথ থেকে বিচু্যত হয়।
বন্ধু ও সহচর আত্মীয়ের মতো। সে ব্যক্তিই বন্ধু যার অনুপস্থিতি বন্ধুত্বের প্রমাণ করে। কামনা-বাসনা (খায়েশ) দুঃখের অংশীদার। অনেক সময় নিকটবতর্ীগণ দুরবতর্ীগণ অপেক্ষা অনেক দূরের হয়ে পড়ে আবার দূরবতর্ী নিকটবতর্ী অপেক্ষাও নিকটতর হয়ে থাকে। সেই ব্যক্তি আগন্তুক যার কোন বন্ধু নেই। যে ব্যক্তি অধিকার লঙ্ঘন করে সে নিজের পথ সংকর্ীণ করে। যে ব্যক্তি নিজের অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কে জ্ঞাত থাকবে তার মর্যাদা অক্ষুন্ন থাকবে। তোমার ও মহিমান্বিত আল্লাহর মাঝে যে সম্পর্ক রয়েছে তা আকড়ে ধরার জন্য সর্বাপেক্ষা বিশ্বাসযোগ্য ও দৃঢ় মাধ্যম।
যেব্যক্তি তোমার কাজের প্রতি উদাসীন সে তোমার শত্রু। সেখানে লোভ ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় সেখানে বঞ্চনা হয় অর্জন। প্রত্যেকটি ত্রুটি-বিচু্যতি পুনরীক্ষণ করা যায় না এবং সকল সুযোগ-সুবিধা হাতে আসে না। অনেক সময় চক্ষুস্মান লোকও পথ হারায়ে ফেলে আবার অন্ধলোক তার লক্ষ্যে উপনীত হতে পারে। মন্দ কাজে সর্বদা বিলম্ব করো কারণ তোমার ইচ্ছানুযায়ী যে কোন সময় তুমি তা দ্রুতগতিতে করতে পারবে। বোকা লোকদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করা মানে জ্ঞানীদের সাথে সংযুক্ত হওয়া।
যে কেউ দুনিয়ার প্রতারণাকে বিশ্বাস করবে তার সাথে দুনিয়া বিশ্বাসঘাতকতা করবে। আর যে এই পতনশীল দুনিয়াকে মহৎ মনে করবে সে দুনিয়া দ্বারা অবনমিত হবে। যারা তীর ছোঁড়ে তাদের সকলেই লক্ষ্যভেদ করতে পারে না। যখন কতর্ৃত্ব বদল হয় তখন যুগের অবস্থারও বদল হয়ে যায়। যাত্রার পূর্বে সহযাত্রীর কাছে জিজ্ঞাসা করে নিয়ো এবং বাড়ি ক্রয়ের আগে প্রতিবেশীদের সম্পর্কে জানো। সাবধান , মুল্যহীন ও হাস্যকর কথা পরিহার করো [তোমার বক্তব্যে এমন কিছু বলো না যাতে অন্যরা উপহাস করবে ] ; এমন কি তা যদি অন্য কারো বক্তব্য বর্ণনাও হয়।
 
নারীর অবস্থান এবং কু-সংস্কৃতি পরিত্যাগ
[রাষ্ট্র পরিচালনায়] নারীর সাথে কোন বিষয়ে পরামর্শ করো না। কারণ তারা দূরদৃষ্টিতে দুর্বল এবং তাদের দৃঢ়চিত্ততা নেই। তাদেরকে পর্দার অন্তরালে রাখ যাতে নামাহরামদের প্রতি তাদের দৃষ্টি না পড়ে। কেননা, পর্দার ক্ষেত্রে কঠোরতা তাদেরকে দৃঢ় ও সুস্থ রাখরে।
তাদের সাথে কোন অবিশ্বস্ত লোকের সাথে সাক্ষাত করতে দেয়া আর তাদের বাইরে আসতে দেয়া সমার্থবোধক। তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে না জানার মত ব্যবস্থা যদি তুমি করতে পার তবে সেভাবেই জীবনযাপন করো। একজন নারীর ক্ষমতার অধিক কাজ তার উপর অর্পণ করো না কারণ, নারী হলো ফুল- পালোয়ান নয়। নারীকে সম্মানের ক্ষেত্রে কখনো সীমালংঙ্ঘন করো না; তাহলে তাকে অন্যের অন্যায় কাজের সুপারিশ করায় উৎসাহিত করবে। নারীর প্রতি অযথা কঠেরতা সৎকর্মশীলাকে রুগ্ন অন্তরে পরিণত করে দেবে আর সতীনারীকে সন্দিহান করে তুলবে।
তোমার অধীনস্থ সকল কর্মচারীর কাজ নির্ধারণ করে দিয়ো যাতে তাদের প্রত্যেকের কাজের ক্ষেত্রে [আলাদাভাবে] কৈফিয়াত তলব করতে পার। এ রকম করলে তারা একজনের কাজের দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না। তোমার আত্মীয়স্বজন ও জ্ঞাতিগণকে সম্মান প্রদর্শন করো; কারণ তারা হলো তোমার পাথা যা দিয়ে তুমি উড়বে, তারা তোমার মুলভিত্তি যে দিকে তুমি প্রত্যবর্তন করবে এবং তারা তোমার হাত যা দিয়ে তুমি লড়াই করতে পারবে। তোমার দ্বীন ও দুনিয়াকে আল্লাহর প্রতি অর্পণ করো। তোমার বর্তমান, ভবিষ্যত, দুনিয়া ও পরকালের জন্য সবের্াত্তম ঐশী প্রার্থনা করছি। এখানেই শেষ করলাম।
(নাহজুল বালাগার ৩১ নম্বর পত্র)

Share

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here