Home ইসলামী দর্শন মানুষ ও তার সৃষ্টিরহস্য, আত্মপরিচিতি -৩

মানুষ ও তার সৃষ্টিরহস্য, আত্মপরিচিতি -৩

1676
0
SHARE

786

পবিত্র কুরআনে হযরত আদম (আ.)-এর সৃষ্টিপ্রক্রিয়া :

আলী নওয়াজ খান
মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআন অবতরণ কালের শুরুতেই সৃষ্টির কথা উল্লেখ করেছেন। তোমার প্রতিপালকের নামে পাঠ কর যিনি সবকিছুকে সৃষ্টি করেছেন।[ সুরা আলাক : ১] অতএব সৃষ্টি একটি অভিনব ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে কথাটি স্মরণ করানোর পাশাপাশি ‘রব্ব’ শব্দটির স্থান দিয়ে এ বিশাল সৃষ্টি রাজ্যের প্রতিপালনও যে বিরাট ব্যাপার তার প্রতি আমাদের দৃষ্টি আর্কষণ করেছেন। সুতরাং সৃষ্টি ও তার প্রতিপালন সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আর এর মধ্যেই সমগ্রজগত প্রতিনিয়ত আবর্তিত হচ্ছে।
তাই উল্লেখিত বিষয়দ্বয়কে আমরা কখনো ছোট ভাবতে পারি না। সৃষ্টির বিষয়টি যে অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মহান স্রষ্টা সে কথাটি আরো দৃঢ়তার সাথে স্মরণ করিয়ে দিতে সুরা মুমিনুনের ১১৫ নম্বর আয়াতে বলেছেন : “তোমরা কি ভেবেছো তোমাদেরকে অহেতুক সৃষ্টি করেছি ? এবং আমার কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তন করবে না ?”
উল্লেখিত আয়াতে সৃষ্টির বিশেষ লক্ষ্যের প্রতি ইঙ্গিত করার সাথে সাথে মানুষকে হুশিয়ার করে দেয়া হয়েছে যদি তারা ঐ মহান লক্ষ্যের পথ অতিক্রম না করে তাহলে সাবধান ! অবশেষে আমার কাছেই ফিরে আসতেই হবে।
অতএব বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা হালকা ভাবে নেয়া উচিত হবে না। মানুষের এ সৃষ্টি প্রক্রিয়ার মধ্যেও মহান পালনকর্তা বিভিন্ন নিদর্শন উপস্থাপন করেছেন যার প্রতি মনোযোগী হতে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন : সুরা জাসিয়ার ৩ ও ৪ নম্বর আয়াতে বলা হচ্ছে, “নিশ্চিত ভাবে আসমানসমূহ ও ভূ-পৃষ্ঠে মুমিনদের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে এবং তোমাদের সৃষ্টির মধ্যেও…।” মহান আল্লাহ এই নির্দশন সমূহের কথা বলেই বিষয়টির সমাপ্ত করেন নি বরং উক্ত নিদর্শনসমূহ প্রত্যক্ষ করা যে সম্ভব আর কেন আমরা দেখতে পাচ্ছি না সে সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন। সুরা জারিয়াতের ২০ ও ২১ নম্বর আয়াতে তিনি প্রশ্ন করেছেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা কি দেখতে পাচ্ছো না তোমাদের সত্তার মধ্যে অসংখ্য নিদর্শন রয়েছে ?’
অতএব মানুষের সৃষ্টি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার মুলত লক্ষ্য হল মহান আল্লাহর ঐসব নিদর্শন সমূহকে অবলোকন করা।
হযরত আদম (আ.)-এর সৃষ্টিপ্রক্রিয়া বিভিন্ন আয়াতে বর্ণিত হয়েছে যেমন সুরা হিজর-এর ২৬ নম্বর আয়াত থেকে ২৯ নম্বর আয়াত পর্যন্ত। আল্লাহ বলেন : আমরা মানুষকে দূর্গন্ধময় পীতবর্ণের শুষ্ক মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি। আর তার পূর্বে জ্বীনদেরকে উত্তপ্ত অগ্নীশিখা থেকে সৃষ্টি করেছি। স্মরণ কর যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশ্তাদের বললেন : আমরা র্দূগন্ধময় পীতবর্ণের শুষ্ক মাটি থেকে মানুষকে সৃষ্টি করবো। আর যখন তার সৃষ্টিকার্য পরিসমাপ্তি হবে এবং আমার রূহ থেকে ফুকে দেব তখন তোমরা সকলেই তাকে সিজদা করবে। উল্লেখিত আয়াতে আল্লাহর রাব্বুল আলামীন তিনটি বিষয়ের প্রতি নির্দেশ করেছেন ।
এক. দূর্গন্ধময় মাটি আর দুই. তার সৃষ্টিকার্য সম্পন্ন করা, তারপর তিন. তাকে রূহ ফুঁকে দেয়া হয়েছে।
পবিত্র কুরআন সৃষ্টিজগতের হেদায়েতের আলো তাই তার প্রত্যেকটি আয়াতই আলোক বর্তিকাস্বরূপ যার মাধ্যমে মানুষ সত্যের সন্ধান পেয়ে থাকে।
আমরা দেখতে পাই ইবলিসের সমস্ত আমল নষ্ট হয়েছে তার আমিত্বের কারণে। সে নিজের সৃষ্টির উপাদানকে শ্রেষ্ঠ মনে করে আদমের সৃষ্টিগত উপাদানকে (মাটি) তুচ্ছজ্ঞান করে প্রভুর নির্দেশের অবাধ্য হয়। ফলে তার অর্জিত সকল আমল বিনষ্ট হয়ে যায় এবং সে প্রভুর অভিশাপে পতিত হয়। তাই মানুষ যাতে কখনো অহঙ্কারী না হয় এবং আমিত্ব তাকে গ্রাস না করে সে জন্যেই মহান প্রতিপালক তাকে তার সৃষ্টিগত উপাদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। মানুষ তার নিজ অন্তদর্পনে যা দিয়ে সে প্রভুর দর্শন লাভ করবে সেখানে আমিত্ববান লোকেরা নিজের প্রতিমূর্তি অবলোকন করে থাকে যাকে সে খোদা ভাবে। তাই আমিত্বের বীজকে অঙ্কুরেই বিনাশ করার জন্যই বিষয়টির উল্লেখ ঘটেছে। আর এর পাশাপাশি তার মধ্যে যে ঐশী সত্তা প্রবিষ্ট করা হয়েছে যার ফলে সে এক মহান অস্তিত্ব সে কথাও তাকে স্মরণ করানো হয়েছে। অর্থাৎ সে যেন তুচ্ছ সত্তা আমিত্বকে বিনাশ করে ঐশী সত্তার পরিচয় লাভ করে জগতে উদ্ভাসিত হয়।
হযরত আদম (আ.)-এর সৃষ্টিপ্রক্রিয়া সম্পর্কে সুরা আরাফের ১১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে : আমরা তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, অতপর বিভিন্ন রূপদান করেছি তারপর ফেরেশ্তাদের বললাম আদমকে সিজদাহ্ কর …।
পবিত্র কুরআনে সুরা সোয়াদের ৭১ ও ৭২ নম্বর আয়াতদ্বয়ে হযরত আদম (আ.)-এর সৃষ্টিলগ্নের কথা উল্লেখ করে মহান আল্লাহ বলেন : যখন আমি ফেরেস্তাদের বললাম: আমি মাটি থেকে মানুষ সৃষ্টি করতে চাই তাই যখন তার রূপদান করলাম এবং আমার রূহ থেকে ফুঁকে দিলাম তখন তোমরা সকলেই তাকে সিজদা করবে।

আদম সন্তানদের সৃষ্টিপ্রক্রিয়া
সৃষ্টিজগতের প্রতিটি অস্তিত্বই একটি নিখুঁত সত্তারূপেই আত্মপ্রকাশ করেছে। সে যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন তার অস্তিত্বের জগতে সে ত্র“টিহীন ও পরিপূর্ণ সৃষ্টি। আমরা যদি একটি মৌমাছি, কিংবা মাছি বা পিপড়ার দিকে তাকাই তাহলে তার বিষ্ময়কর সৃষ্টিকার্য আমাদের কাছে অতি সহজেই ধরা পড়বে। একটি পিপড়া তার নিজের ওজনের চেয়ে কয়েক গুণ বেশী ভারী বস্তু সে বহন করে নিয়ে যেতে পারে। তাই আল্লাহর রব্বুল আলামীন এ চমৎকার সৃষ্টিকার্যের কথাকে স্মরণ করে সুরা সিজদাহ্ ৪ নম্বর আয়াতে বলেছেন : তিনি সেই সত্তা যিনি প্রত্যেক জিনিসকে সর্বোত্তম রূপে সৃষ্টি করেছেন এবং মানুষের সৃষ্টিকার্যকে কাদা থেকে শুরু করেছেন। সৃষ্টিজগতের কেবল সৃষ্টিগত উপাদানই যে উৎকৃষ্ট তাই নয় বরং তাদের প্রত্যেককে নিজ অবস্থানে যে রূপদান করেছেন তাও সর্বোৎকৃষ্ট রূপ। বর্তমানে বিজ্ঞান তার বিভিন্ন প্রযুক্তির আত্মপ্রকাশের ক্ষেত্রে সৃষ্টিজগতের বিভিন্ন্ অস্তিত্বের খোদাপ্রদত্ত রূপকেই মডেল ধরেই সমাজে নিত্যনতুন আবিষ্কার নিয়ে আসছে। তাই মহান প্রতিপালক এ কথাকে ব্যক্ত করার উদ্দেশ্যে সুরা তাগাবুনের ৩ নম্বর আয়াতে বলেন : ‘তিনি আসমানসমূহ ও জমীনকে ন্যায়ের উপর সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে সর্বোৎকৃষ্ট রূপদান করেছেন আর তার দিকেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন করতে হবে।’ উল্লেখিত আয়াতে সর্বোৎকৃষ্ট রূপদানের কথা স্মরণের সাথে সাথেই সর্বশেষ পরিণতির কথাও উল্লেখ করেছেন যাতে রূপের পরশে রূপদাতার কথা ভুলে নিজকে বাঁধনমুক্ত মনে না করি।
আরো মজার ব্যাপার হল মহান আল্লাহ আমাদেরকে এমন জিনিস দিয়ে সৃষ্টি করেছেন যা আমাদের অতিপরিচিত বস্তু। অর্থাৎ আমাদের সৃষ্টির উপাদান সমূহকে মঙ্গলগ্রহ থেকে আনেন নি বরং এ অতিসাধারণ জিনিস দিয়েই আমাদের সৃষ্টি করেছেন যা আমাদের হাতের কাছে আছে। আমরা স্রষ্টার গুণের কারণেই ঐ সকল অতি উৎকৃষ্ট বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়েছি। মহান স্রষ্টা এ কথাকেই উল্লেখ করেছেন সুরা মায়ারিজের ৩৯ নম্বর আয়াতে। তিনি বলেন : “আমরা তাদেরকে তাদের পরিচিত জিনিস দিয়েই সৃষ্টি করেছি।” সৃষ্টি আর আবিষ্কারের মধ্যে মুল পার্থক্য হল আবিস্কার হল পূর্ব থেকেই জিনিসটি ছিল আজ খুঁজে পাওয়া গেছে আর সৃষ্টি হল যা কখনও ছিল না তিনি অস্তিত্ব দান করলেন। তাই মানুষ সৃষ্টির পূর্বের অবস্থা সম্পর্কে মহান স্রষ্টা বলেছেন ; ‘তোমরা তোমাদের সৃষ্টির পূর্বে উল্লেখযোগ্য কোন কিছুই ছিলে না।’ পবিত্র সুরা মারিয়ামের ৬৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে مِنْ قَبْلُ وَلَمْ يَكُنْ شَيْئًا পূর্বে তোমরা কোন কিছুই ছিলে না তোমাদের কোন রকম অস্তিত্বই ছিল না। এই আয়াতদ্বয়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় পৃথিবীতে আগমনের পূর্বে আমাদের কোন চিহ্নই জগতে ছিল না। কেননা উল্লেখিত আয়াতটি কাফের ও মুশরিকদের কথার পরিপেক্ষিতে নাযিল হয়েছে যে ‘আমরা মারা গেলে এ বস্তুগত দেহ নিঃশেষ হওয়ার পর আবার কিভাবে পুণরায় তাকে উপস্থিত করা হবে ?!’ তখনই আল্লাহর রাব্বুল আলামীন বললেন ; “তোমরা একটিু চিন্তা করে দেখ, তোমাদের এ সৃষ্টিরপূর্বে কোথাও তোমাদের কোনরকম চিহ্নই ছিল না [রূহ অথবা অন্যকিছু ] সেই অবস্থা থেকে যদি তোমাদের বর্তমান অস্তিত্ব দান করতে পারি তাহলে সেদিন তো আরো সহজ হবে তোমাদের উপস্থিত করা।”
অতএব মানুষকে অতিসাধারণ বস্তু যার সাথে সে পরিচিত তা দিয়েই তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর এ সৃষ্টির পূর্বে তার কোন কিছুই বিদ্যমান ছিল না। মানুষকে সর্বোত্তম আকৃতি ও উপাদান দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। (لَقَدْ خَلَقْنَا الإِنسَانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ (التين/4))
হযরত আদম (আ.)-এর পরবর্তী বংশধর সৃষ্টির কথা বিভিন্ন আয়াতে বিভিন্নভাবে উল্লেখ হয়েছে,তবে পবিত্র কুরআনে দুটি স্থানে বিস্তারিত ভাবে বিষয়টির বর্ণনা করা হয়েছে যার মধ্যে একটি হল : ‘তিনি তার প্রত্যেকটি জিনিসকেই সর্বোত্তমরূপে সৃষ্টি করেছেন এবং কাদা হতে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন। অতপর তিনি তার বংশবৃদ্ধি ঘটিয়েছেন তুচ্ছ তরল পদার্থের র্নিযাস হতে। তারপর তিনি সেটাকে সুঠাম করে নিজের রূহ হতে ফুকে দিলেন। অতঃপর তোমাদেরকে দিয়েছেন কান, চক্ষু ও অন্তঃকরণ; তোমরা অতি সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। সুরা সাজদাহ্ ৭-৯ নম্বর আয়াত।
এখানে স্পষ্টভাবে আদি মানব সৃষ্টির উপকরণ সম্পর্কে প্রথমাংশে মাটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে আর তার পরবর্তী অংশে আদম সন্তানদের উৎপত্তির কথা বলা হয়েছে। পবিত্র কুরআনের কোথাও মানুষের বস্তুদেহ পরিপূর্ণরূপ লাভ করার পূর্বে রূহ ফুঁকে দেয়ার কথাই আসে নি। শুধু তাই নয় বরং রূহ ফুঁকে দেয়ার কথাটি এমন এক বাচনে ব্যক্ত করা হচ্ছে যে বস্তদেহ পরিপূর্ণতা অর্জনের সাথে সাথেই তৎক্ষণাৎ প্রভু সদ্য নিজের রূহ থেকে ফুঁকে দিচ্ছেন। এই বাচনভঙ্গী বা কথার মধ্যে এ জাতীয় কোন ইঙ্গিত-ই নেই যে মহান আল্লাহ পূর্বের সৃষ্ট রূহকে দিচ্ছেন।
সুরা তারিকের ৫-৭ নম্বর আয়াতে আদম সন্তানদের সৃষ্টির আরোকিছু নতুন তথ্য সংযোজন করা হয়েছে মহান আল্লাহ বলেন : সুতরাং মানুষ মনোযোগের সাথে দেখুক যে তাকে কী জিনিস দিয়ে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সবেগে স্থলিত পানি হতে। এটা নির্গত হয় মেরুদণ্ড ও পঞ্জরস্থির মধ্য হতে।
সুরা হজ্জের ৫ নম্বর আয়াতেও আদম সন্তানদের সৃষ্টির বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে তবে আলোচনা সংক্ষিপ্ত করার লক্ষ্যে আমরা শুধুমাত্র সুরা মু’মিনুনের ১২-১৪ নম্বর আয়াত আলোচনা করে সৃষ্টির ধারাবাহিকতার পর্যালোচনা এখানে শেষ করবো।
‘আমি তো মানুষকে সৃষ্টি করেছি মাটির উপাদান হতে। অতপর আমি সেটাকে শুক্রবিন্দুরূপে স্থাপন করি এক নিরাপদ আধার ; পরে আমি শুক্রবিন্দুকে পরিণত করি জমাট বাঁধা রক্তপিণ্ডে, অতঃপর রক্তপিন্ডকে পরিণত করি মাংসপিণ্ডে এবং মাংসপিন্ডকে পরিণত করি অস্থিপঞ্জরে; অতঃপর অস্থিঞ্জরকে ঢেকে দেই মাংস দ্বারা। অবশেষে ওটাকে গড়ে তুলি অন্য এক নতুন সৃষ্টিরূপে। অতএব সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কত মহান।’ [সুরা মু’মিনুন ১২-১৪ নম্বর আয়াত]
অতএব মানুষ এমন এক সৃষ্টি যাকে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনের বেশ কয়েকটি স্থানে নিজের সাথে সম্পর্কযুক্ত করেছেন। যেমন আমরা পূর্বে প্রত্যক্ষ করেছি যে স্রষ্টা বলেছেন, ‘আমি আমার নিজের রূহ থেকে ফুঁকে দিচ্ছি’। একথাটি যদি এভাবে আসতো যে তাকে রূহ ফুকে দেয়া হয়েছে তাহলে তার অর্থ ভিন্ন হত। তাই নিঃসন্দেহে এটি একটি মহান অস্তিত্ব। যে অস্তিত্বের সৃষ্টিকার্যের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ ইবলিসকে সম্বোধন করে বলেছেন, ‘ইবলিস তোমার এমন কি হয়েছিল যে অস্তিত্বকে ‘আমি নিজ হাতে সৃষ্টি করেছি((ص/75) خَلَقْتُ بِيَدَيَّ )’ তাকে সিজদা করা থেকে বিরত হলে ?! এখানেও কিন্তু নিজের সাথেই একটি বিশেষ সংযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। সৃষ্টিকুলের স্রষ্টার সাথে এজাতীয় সংযোগ ঐ সৃষ্টির বিশেষ অবস্থান ও মর্যাদার কথাই প্রমাণ করে। অস্তিত্বজগতে এমন মর্যাদা আর কোন সৃষ্টিকেই দেয়া হয় নি একথা পবিত্র কুরআনে আল্লাহর রাব্বুল আলামীন এভাবে উল্লেখ করেছেন, ‘নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি।’ [সুরা ইসরা ৭০ নম্বর আয়াত] শুধু তাই নয় জমীনে যা কিছু আছে সে সবকিছু এ বিশেষ অস্তিত্বের জন্যেই মহান আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন।( সুরা বাকারা ২৯ নম্বর আয়াত।) আর জমীন ও আসমান সমূহে যাকিছু আছে সবই মানুষের অধিনস্ত করে দিয়েছেন। (সুরা লুকমান ২০ নম্বর আয়াত।)
এই বিশাল আয়োজন বিশেষ কোন লক্ষ্য ছাড়াই কি মানুষের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ? না, কখনোই তা হতে পারে না ; প্রতিটি বিবেকবান মানুষই এ উত্তর দিবেন। সুরা মুমিনুনের ১১৫ নম্বর আয়াতে মহান স্রষ্টা একথাই ব্যক্ত করেছেন ‘তোমরা কি ভেবেছো তোমাদের অহেতুক সৃষ্টি করেছি’।
যার ফলে মহান আল্লাহ্ মানব জাতিকে সম্বোধন করে বলেছেন যে, ‘আমি আকাশ পৃথিবীর ও পর্বতমালার সামনে এই আমানত পেশ করেছিলাম অতঃপর তারা একে বহন করতে অস্বীকার করল এবং এতে ভীত হল; কিন্তু মানুষ তা বহন করল। নিশ্চিয় সে অজ্ঞতাবশত [এই মহান আমানতের মর্যাদা সম্পর্কে না জানার কারণে] নিজের উপর জুলুম করল।’(সুরা আহযাব ৭২ নম্বর আয়াত) তাহলে এই মহান আমানত কি যা একমাত্র মানুষই বহন করতে চেয়েছে আর স্রষ্টাও সম্মতি প্রদান করে এ আমানত তার কাছে সর্মপণ করেছেন?

Share

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here